দীপক (পল্টু) দাসের ৮৭তম জন্মদিবসে ইস্টবেঙ্গলের ‘স্পোর্টস ডে’ উদযাপন


















দীপক (পল্টু) দাসের ৮৭তম জন্মদিবসে ইস্টবেঙ্গলের ‘স্পোর্টস ডে’ উদযাপন
ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সঙ্গে নিয়ে আজ, ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রয়াত সচিব দীপক (পল্টু) দাসের ৮৭তম জন্মদিবস যথাযথ মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল। প্রয়াত সচিবের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ এই দিনটিকে ‘স্পোর্টস ডে’ হিসেবে পালন করল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। সেই উপলক্ষ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্লাব তাঁবু ও মাঠজুড়ে আয়োজিত হয় একাধিক অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্য, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ, চিকিৎসক, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
সকাল ১০টায় ক্লাব তাঁবুতে প্রয়াত সচিব দীপক দাসের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তাঁর কর্মময় জীবন ও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এরপর আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। বিশিষ্ট চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এই স্বাস্থ্য শিবিরে ক্লাবের সদস্য ও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান। সমাজসেবামূলক এই উদ্যোগ ‘স্পোর্টস ডে’-এর তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ক্লাবের মাঠে আয়োজিত প্রাক্তন ফুটবলারদের প্রদর্শনী ম্যাচ। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলারদের একসঙ্গে মাঠে নামতে দেখে নস্টালজিয়ায় ভেসে যান উপস্থিত সমর্থকরা। তাঁদের দক্ষতা, পুরনো দিনের স্মৃতি এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ঘিরে প্রদর্শনী ম্যাচটি হয়ে ওঠে দিনের অন্যতম আকর্ষণ।
বিকেলে ক্লাব তাঁবুতে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ক্রীড়াক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী একাধিক ক্রীড়াবিদ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী মাননীয় তাপস রায় এবং পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ফুটবলার সুধীর কর্মকার, প্রাক্তন ফুটবলার কুলজিত সিং এবং ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ বাইচুং ভুটিয়া।
এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয় সদ্য কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী অস্মিতা দে-কে। তাঁর আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয়। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪x৪০০ মিটার রিলে রেসে সোনাজয়ী নফিসা খাতুন-কেও সংবর্ধিত করা হয়।
শুধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদরাই নন, বাংলার ফুটবলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও এদিন সম্মান জানানো হয়। আইএফএ পরিচালিত ফুটবল লিগের প্রথম থেকে পঞ্চম ডিভিশনের সেরা খেলোয়াড়দের মঞ্চে তুলে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের উৎসাহিত করার এই উদ্যোগ ইস্টবেঙ্গলের ক্রীড়া-উন্নয়নের ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে।
এদিন বিশেষ সম্মান জানানো হয় বাংলা ক্রীড়া ধারাভাষ্য ও সাংবাদিকতার জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জয়ন্ত চক্রবর্তীকে। বাংলা ক্রীড়া সাংবাদিকতার জগতে তাঁর ৫০ বছরের পথচলা উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও ধারাভাষ্যের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছরের থিম সং-এর গীতিকার রাজা চন্দ এবং বিশিষ্ট সুরকার অরিন্দম চ্যাটার্জী-কে সম্মানিত করা হয়। তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদানের মাধ্যমে ক্লাবের ঐতিহ্য ও আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের বিশেষভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
‘স্পোর্টস ডে’-এর এই বিশেষ দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে ক্লাব প্রাঙ্গণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনারও উদ্বোধন করা হয়। ক্লাবের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ফুটবলার সুধীর কর্মকারের নামে নামাঙ্কিত প্লেয়ার বক্স, প্রয়াত সচিব দীপক দাসের নামে নামাঙ্কিত প্রেসিডেন্সিয়াল বক্স এবং ক্লাবের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জ্যোতিষচন্দ্র গুহের নামে নামাঙ্কিত অফিস কমপ্লেক্স আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
প্রয়াত সচিব দীপক দাসের স্মৃতিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ‘স্পোর্টস ডে’ তাই শুধুমাত্র একটি স্মরণ অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি। খেলাধুলা, সমাজসেবা, ক্লাবের ঐতিহ্য এবং ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে উঠল ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস ও ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকারের এক বিশেষ উদযাপন। প্রাক্তন থেকে বর্তমান, ফুটবল মাঠ থেকে অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্র—সবকিছুকে একসূত্রে বেঁধে এদিনের অনুষ্ঠান আরও একবার প্রমাণ করল, ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি বাংলার ক্রীড়া ও সংস্কৃতির এক আবেগময় প্রতিষ্ঠান।


















