পুরুষ এবং মহিলা — ফুটবলের দুই বিভাগেই ভারত সেরা East Bengal FC 🔴🟡🏆












ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৫-২৬ মরশুম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ইস্টবেঙ্গল এফসির ঐতিহাসিক দ্বৈত সাফল্যের জন্য। একদিকে পুরুষদের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয়, অন্যদিকে মহিলাদের ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া — এই দুই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ভারতীয় ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের ইতিহাসে এই প্রথমবার পুরুষ এবং মহিলা — দুই বিভাগেই একই মরশুমে জাতীয় স্তরের লিগ জিতে নতুন যুগের সূচনা করল ইস্টবেঙ্গল। ক্লাবের সমর্থক, প্রাক্তন ফুটবলার, কর্মকর্তা এবং কোটি কোটি লাল-হলুদ অনুরাগীদের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি সাফল্য নয়, বরং বহু বছরের অপেক্ষা, আবেগ এবং আত্মত্যাগের পূর্ণতা।
পুরুষদের বিভাগে ঐতিহাসিক ISL জয়
পুরুষদের বিভাগে ইস্টবেঙ্গল এফসি ২০২৫-২৬ মরশুমে অসাধারণ ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের শিরোপা জয় করে। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা, হতাশা এবং পুনর্গঠনের পর অবশেষে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করল লাল-হলুদ বাহিনী।
মরশুমের শুরু থেকেই দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং শক্তিশালী দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষদের চাপে রাখে। কোচের কৌশল, বিদেশি ও ভারতীয় ফুটবলারদের দুর্দান্ত বোঝাপড়া এবং সমর্থকদের অদম্য সমর্থন পুরো মরশুমে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইন্টার কাশির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ জয় তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ১৫ মিনিটে আলফ্রেড প্লানাসের গোলে পিছিয়ে পড়ে লাল-হলুদ শিবির। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৫০ মিনিটে আনোয়ার আলির অসাধারণ ডিফেন্স-চেরা পাস থেকে ইয়ুসেফ এজ্জেজ্জারি সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে বিপিন সিংয়ের দুরন্ত ক্রস থেকে রাশিদের গোল গোটা স্টেডিয়ামকে উৎসবের মঞ্চে পরিণত করে। গোলের পর সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করতে গিয়ে রাশিদের ব্যারিকেডে উঠে পড়া সেই মুহূর্ত ইতিমধ্যেই ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ছবি হয়ে উঠেছে।
এই জয়ের মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গল তাদের প্রথম ISL খেতাব জয় করে এবং বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়। কলকাতার রাস্তায় নেমে আসে লাল-হলুদ সমর্থকদের ঢল, রাতভর চলে উৎসব, বাজি, গান এবং বিজয় মিছিল।
মহিলা বিভাগে টানা দ্বিতীয়বার দেশের সেরা
অন্যদিকে মহিলা ফুটবলেও আধিপত্য বজায় রাখে ইস্টবেঙ্গল এফসি। ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগ ২০২৫-২৬ মরশুমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল দল। আক্রমণভাগের ধার, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিফলিত হয়েছে।
ফাজিলা ইকাপুট, সৌম্যা গুগুলথ, কার্তিকা অঙ্গামুথু, সুস্মিতা লেপচাদের মতো ফুটবলাররা পুরো মরশুমে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জয়, গোলের বন্যা এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল ইস্টবেঙ্গলকে অন্য দলগুলোর থেকে অনেকটাই এগিয়ে রাখে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল দলের ধারাবাহিকতা। ঘরের মাঠ হোক বা বাইরে — প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছে দল। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা এবং ফুটবলারদের নিবেদন ইস্টবেঙ্গলকে টানা দ্বিতীয়বার দেশের সেরা হওয়ার গৌরব এনে দেয়।
সমর্থকদের আবেগ এবং ক্লাবের পুনর্জাগরণ
এই দ্বৈত সাফল্যের পেছনে সমর্থকদের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মরশুম জুড়ে ঘরের মাঠে তিফো, ব্যানার, গ্যালারির গর্জন এবং নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করেছে। পুরুষ ও মহিলা — দুই দলের ম্যাচেই সমর্থকদের উন্মাদনা প্রমাণ করেছে যে ইস্টবেঙ্গল শুধুমাত্র একটি ক্লাব নয়, এটি এক আবেগ, এক সংস্কৃতি।
গত কয়েক বছরে ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়ন, যুব ফুটবলে জোর, মহিলা ফুটবলে বিনিয়োগ এবং পেশাদার পরিকল্পনার ফলও এই সাফল্যের মধ্যে স্পষ্ট। পুরুষ ও মহিলা — দুই বিভাগেই ভারত সেরা হওয়া প্রমাণ করে যে ইস্টবেঙ্গল এখন শুধুমাত্র ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করছে না, বরং আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।
ইতিহাসের পাতায় সোনালি অধ্যায়
২০২৫-২৬ মরশুম তাই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। এক মরশুমে পুরুষদের ISL এবং মহিলাদের Indian Women’s League — দুই ট্রফিই লাল-হলুদ শিবিরে আসা ভারতীয় ফুটবলে এক বিরল নজির।
লাল-হলুদ পতাকার নিচে একসঙ্গে উদযাপিত এই সাফল্য শুধু ট্রফি জয়ের গল্প নয় — এটি সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন, আত্মবিশ্বাস এবং ঐক্যের প্রতীক।
ভারত সেরা — পুরুষদের ফুটবলে।
ভারত সেরা — মহিলাদের ফুটবলে।
ভারত সেরা — ইস্টবেঙ্গল। 🔴🟡🏆
