সাড়ম্বরে পালিত হল ইস্টবেঙ্গলের ‘জয়োৎসব’

সাড়ম্বরে পালিত হল ইস্টবেঙ্গলের ‘জয়োৎসব’

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে চলতি মরশুমে এক অনন্য নজির গড়েছে East Bengal FC। পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই জাতীয় সেরার মুকুট জিতে লাল-হলুদ শিবির এনে দিয়েছে বিরল গৌরব। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে রবিবার, ১৪ জুন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে আয়োজন করা হয় বিশেষ ‘জয়োৎসব’ অনুষ্ঠানের।

অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রদর্শিত হয় আইএসএল জয়ের স্মরণীয় ভিডিওচিত্র। এরপর উদ্বোধনী ভাষণ দেন ক্লাব সভাপতি Murarilal Lohia। তিনি বলেন, “মহিলা দল টানা দু’বার আইডব্লিউএল জয় করে যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যে সাফল্য এসেছে, তা অত্যন্ত গর্বের। আজকের ইস্টবেঙ্গলের এগিয়ে চলার নেপথ্যে প্রয়াত পল্টু দাসের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বড় অবদান রয়েছে। আমরা তাঁর দেখানো পথেই এগিয়ে চলেছি।”

এরপর সংবর্ধিত করা হয় আইএসএলজয়ী দলের গোলরক্ষক Prabhsukhan Singh Gill-কে। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, “ডার্বি ম্যাচে করা সেই সেভটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা সেভ। তবে এখন আর সেটি নিয়ে বেশি ভাবি না। আমাদের সমর্থকেরা যেভাবে সবসময় পাশে থেকেছেন, তা অসাধারণ। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আবেগ ও পরম্পরা কখনও ভোলার নয়।”

গিলের পর সংবর্ধিত হন প্রাক্তন ফুটবলার ও ইস্টবেঙ্গলের প্রথম জাতীয় লিগজয়ী কোচ Manoranjan Bhattacharya। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি ক্লাবের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Sourav Ganguly এবং Subrata Dutta। ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৌরভ বলেন, “ইস্টবেঙ্গল ভারতের অন্যতম সেরা ক্লাব। অতীতে বহু ট্রফি জিতলেও এবারের আইএসএল জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই ট্রফি তারা প্রথমবারের মতো জয় করেছে।”

আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্তও ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ক্লাবকে দেশের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি তিনি ক্লাবের শীর্ষ কর্তা Debabrata Sarkar-এর অবদানেরও প্রশংসা করেন।

দেবব্রত সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইস্টবেঙ্গল নিজের সামর্থ্যে আইএসএল খেলছে এবং ভবিষ্যতেও সেইভাবেই খেলবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, দুই বছরের মধ্যে আমরা আইএসএল জিতব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে।” তিনি ক্লাবের দীর্ঘ পথচলার নানা স্মৃতিও ভাগ করে নেন।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত করা হয় রাজ্যের নবনিযুক্ত শিল্পমন্ত্রী Tapas Roy-কেও। তিনি বলেন, “জীবনে অনেক সংবর্ধনা পেয়েছি, কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এই সম্মান আমার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।” পাশাপাশি তিনি প্রয়াত পল্টু দাস এবং দেবব্রত সরকারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।

‘জয়োৎসব’-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাক্তন তারকা ফুটবলারদের সঙ্গে সদ্য আইএসএলজয়ী দলের সদস্যদের একসঙ্গে মঞ্চে উপস্থিতি ও ফটোসেশন। এদিন সংবর্ধিত হন দলের Souvik Chakrabarti, Debjit Majumder, Prabhat Lakra এবং Edmund Lalrindika

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের একাধিক কিংবদন্তি ও প্রাক্তন ফুটবলার, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য Syed Nayeemuddin, Bhaskar Ganguly, Prasanta Banerjee, অলোক মুখোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, মনোজিত দাস, অতনু ভট্টাচার্য, অমিত ভদ্র এবং বিকাশ পাঁজি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন Ajit Banerjee ও সিএবির প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক Gautam Bhattacharya এবং শর্মিষ্ঠা গোস্বামী চ্যাটার্জি। অনুষ্ঠানের শেষে ক্লাবের বর্তমান সচিব Rupak Saha উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে ‘জয়োৎসব’-এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক সাফল্য শুধু একটি ক্লাবের অর্জন নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের নতুন যুগের প্রতীক। ‘জয়োৎসব’-এর মাধ্যমে সেই গৌরবময় অধ্যায়কেই আরও একবার উদ্‌যাপন করল লাল-হলুদ পরিবার।