ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগ ২০২৫-২৬ মরশুমে আবারও ইতিহাসের শিখরে East Bengal FC
দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা দ্বিতীয়বার ভারতসেরার মুকুট জিতে নিল লাল-হলুদ। ২০২৪-২৫ মরশুমের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও গোটা মরশুম জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণ, রক্ষণ, দলগত সমন্বয় এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স— সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলা ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগ ২০২৫-২৬
১২ মে ২০২৬, ইস্টবেঙ্গল মাঠ, কলকাতা
ম্যাচ শেষে ফলাফল :
East Bengal FC : ২
(সৌম্যা গুগুলথ – ২)
নীতা এফএ : ০
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি সামনে রেখে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে মাঠে নামে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের প্রথম বাঁশি থেকেই মাঝমাঠের দখল নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে থাকে লাল-হলুদ ফুটবলাররা। দ্রুত পাস, উইং ব্যবহার এবং ধারাবাহিক আক্রমণে নীতা এফএ রক্ষণ বারবার ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। সমর্থকদের গর্জনে মুখরিত ইস্টবেঙ্গল মাঠে যেন শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল— ইতিহাসের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছে দল।
প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পেতে কিছুটা সময় নেয় ইস্টবেঙ্গল। তবে আক্রমণের ধার এক মুহূর্তের জন্যও কমেনি। মাঝমাঠ থেকে দুরন্ত বল সরবরাহ এবং সামনের সারির দ্রুত মুভমেন্ট প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে ক্রমাগত সমস্যায় ফেলতে থাকে। অবশেষে সেই চাপের ফল আসে সৌম্যা গুগুলথের পা থেকে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন এবং স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।
গোল পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে লাল-হলুদ। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ বজায় রেখে আক্রমণ চালাতে থাকে দল। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও গোল করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সৌম্যা। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয় এবং ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
রক্ষণভাগেও এদিন ছিল অসাধারণ শৃঙ্খলা। প্রতিপক্ষকে খুব বেশি জায়গা না দিয়ে গোটা ম্যাচ জুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের সমন্বয়ে আরও একটি ক্লিন শিট তুলে নেয় দল। পুরো মরশুমে মাত্র পাঁচ গোল হজম করার পরিসংখ্যানই বলে দেয় কতটা শক্তিশালী ছিল ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ।
এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ দাঁড়াল ৩৩ পয়েন্ট। এখনো পর্যন্ত ১১টি জয় এবং মাত্র ১টি পরাজয় লাল-হলুদের। দল গোল করেছে ৪০টি এবং গোল হজম করেছে মাত্র ৫টি। এখনও বাকি রয়েছে গাড়োয়াল ইউনাইটেড ও শ্রীভূমি এফসি’র বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ, তবে তার আগেই চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল।
দলের আক্রমণভাগে গোটা মরশুম জুড়ে অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন Fazila Ikwaput। এখনো পর্যন্ত তাঁর গোল সংখ্যা ১৭, যা তাঁকে দলের সর্বাধিক গোলদাতা করে তুলেছে। তাঁর পাশাপাশি সৌম্যা গুগুলথ-সহ অন্যান্য ফুটবলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইস্টবেঙ্গলকে এই ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছে।
টানা দুই মরশুম জাতীয় লিগ জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় মহিলা ফুটবলে নতুন এক অধ্যায় লিখল ইস্টবেঙ্গল। সমর্থকদের আবেগ, খেলোয়াড়দের লড়াই এবং কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার সমন্বয়ে তৈরি এই সাফল্য দীর্ঘদিন মনে রাখবে লাল-হলুদ পরিবার। ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে ২০২৫-২৬ মরশুমের এই চ্যাম্পিয়ন অভিযান।
