‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ : ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০৭ এ পা

















‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’
সম্মানীয় সুধী,
চিরাচরিত প্রথা মেনেই প্রতি বছরের মত চলতি বছরও ১ আগস্ট যথেষ্ট মর্যাদার সঙ্গে পালিত হল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস। সকালে ক্লাব তাঁবুতে লাল-হলুদ পতাকা উত্তোলন ও ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সুরেশ চন্দ্র চৌধুরির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এই অনুষ্ঠানে ক্লাব কর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক ভাস্কর গাঙ্গুলি, বিকাশ পাঁজি।
বিকেলে বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী রুপঙ্কর বাগচীর
সঙ্গীতানুষ্ঠানের পর ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুরারী লাল লোহিয়ার উদ্বোধনী ভাষণ দিয়েই নজরুল মঞ্চে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। এরপর অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জোলন রাজ্যের দুই মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও কৌশিক চৌধুরীর, পাশাপাশি ছিলেন সমরেশ চৌধুরী,
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলী, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অলোক মুখোপাধ্যায়, মিহির বসু সহ
একঝাঁক প্রাক্তন ফুটবলাররা। ছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামী এবং স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের মত ব্যক্তিত্ব। এরপর মঞ্চে তাঁর ভাষণে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা আজ দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে, আর এর জন্য ইস্টবেঙ্গলকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।’ এর পাশাপাশি আগামী দিনেও ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যও কামনা করেন তিনি।
রাজ্যের আর এক মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল মানে মাটির সোঁদা গন্ধ। আমি একটা সময় গোটা রায়গঞ্জে সাইকেলে ইস্টবেঙ্গলের পতাকা নিয়ে ৬ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করেছি। আমার শহর রায়গঞ্জে কুলদাকান্ত ট্রফি গত বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আশাকরি এই বছর ও এই ট্রফি জয় করতে পারবে।” এরপর ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত করা হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী তাপস রায় এবং ড. জিষ্ণু বসুকে।
মঞ্চে বিজ্ঞানী জিষ্ণু বসু বলেন, ‘জীবনে প্রথম যে পতাকাটা ধরেছিলাম সেটা হল ইস্টবেঙ্গলের পতাকা। আর ইস্টবেঙ্গল আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয়। আসলে ইস্টবেঙ্গল মানে প্রতিবাদ, ইস্টবেঙ্গল মানে সাহস। পূর্ব বাংলার মানুষ হওয়ার সুবাদে ইস্টবেঙ্গল আমার কাছে সব কিছু।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘ ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে পরিচয় আমার কৃষাণু দের খেলা দেখে। ইস্টবেঙ্গল মানে একটা ক্লাব নয়, ইস্টবেঙ্গল ওপার বাংলার মানুষের লড়াইয়ের অন্যতম পথ দেখিয়েছে। আর সেই লড়াইয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিরা পথ দেখিয়েছেন। আমার আশা ইস্টবেঙ্গল আগামী দিনে আরও সাফল্য পাবে।’
রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘১০৭ বছর ধরে যাঁরা ইস্টবেঙ্গলকে এই জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ নেই। তাঁদের আমি প্রণাম জানাই। আর বর্তমান কর্তাদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে আমায় ময়দান যিনি চিনিয়েছিলেন তাঁর নাম পল্টু দাস।’ এর পাশাপাশি আরও নানা স্মৃতিচারণা করেন শিল্পমন্ত্রী।
এরপর এক্সিলেন্স ইন মুভি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পরিচালক তথা অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলীকে। তাঁকে সম্মানিত করেন ক্লাবের দুই প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, অলোক মুখোপাধ্যায় এবং রায়া ভট্টাচার্য। তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে কৌশিক গাঙ্গুলি বলেন, ইস্টবেঙ্গল মানে আমার ক্লাব। এমন একটা আনন্দের মুহূর্তে যাঁদের হাত থেকে আমি পুরস্কার নিলাম তাঁরা আমাদের সময়ের ফুটবলের লিজেন্ড ছিলেন। সত্যিই আমি ভাগ্যবান। ‘
সুপার অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের স্বনামধন্য অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই স্বনামধন্য শিল্পীকে ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত করেন ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান কোচ অ্যান্তেনিও লোপেজ হাবাস। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কাছ থেকে এমন সম্মান পেয়ে অভিভূত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি স্মৃতিচারণ করেন, লাল-হলুদ জার্সি পরে আশ্রয় ছবির চলচ্চিত্রের কথা।
এরপর সংবর্ধিত করা হয় মাননীয় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে। সংক্ষিপ্ত ভাষণে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু খেলাধুলো নয়, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সংস্কৃতির এক পীঠস্থান। এই শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমি চাইব আরও সাফল্য পাক।
অজয় বসু নামাঙ্কিত সেরা সাংবাদিক অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তাকে। তাঁকে সংবর্ধিত করেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও ক্লাব সচিব রূপক সাহা।
পুষ্পেন সরকার নামাঙ্কিত সেরা স্পোর্টস ফটো জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক শঙ্কর নাগ দাসকে। তাঁকে সম্মানিত করেন ক্লাবের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক ভাস্কর গাঙ্গুলি ও বিকাশ পাঁজি এবং সচিব রূপক সাহা।
চলতি বছরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে ভারত গৌরব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ
সঞ্জীব সান্যাল ও প্রীতম চক্রবর্তীকে। ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁদের এই সম্মাননা তুলে দেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, প্রেসিডেন্ট মুরারী লাল লোহিয়া, সচিব রূপক সাহা, ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় এবং ক্লাবের প্রাক্তন অধিনায়ক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর সংক্ষিপ্ত ভাষণে সঞ্জীব সান্যাল বলেন, ‘আমাকে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে এমন সম্মান দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই সকলকে। আর আমি আমার এই পুরস্কারটি উৎসর্গ করছি আমার ছোটবেলার বন্ধু নীলাদ্রী মজুমদারকে।
এরপর একই সম্মননা প্রদান করা হয় প্রীতম চক্রবর্তীকে। তাঁর হাতে ভারত গৌরব সম্মাননা তুলে দেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, সচিব রুপক সাহা, দেবব্রত সরকার এবং প্রাক্তন ফুটবলার মিহির বসু। তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে প্রীতম চক্রবর্তী বলেন, ‘এমন সুন্দর অনুষ্ঠানে আমার হাতে এমন সম্মননা দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞ। আসলে ইস্টবেঙ্গল আমার কাছে শুধু একটা ক্লাব নয়। একটা পরিবার। ইস্টবেঙ্গলের কাছ থেকে এমন সম্মান পাওয়ার সময় আমার পরিবারের কথা বড় বেশি মনে পড়ছে। কেননা তাঁদের দেখেই আমি শিখেছি ইস্টবেঙ্গলকে কিভাবে ভালবাসতে হয়।’
এরপর রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে সম্মাননা জানান জিষ্ণু বসু, প্রেসিডেন্ট মুরারি লাল লোহিয়া সচিব রূপক সাহা এবং প্রাক্তন জাতীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ গোলে জয় পেয়েছে তার জন্য কোচ এবং খেলোয়াড়দের অসংখ্য ধন্যবাদ। আগামী বছর ১ আগস্ট আসার আগে আমি যেনো দেখতে পাই সব ট্রফি ইস্টবেঙ্গল জিতেছে।
চলতি বছর স্বপন বল নামাঙ্কিত সাপোর্টার অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মনোময় ভট্টাচার্য, কল্পনা চক্রবর্তী, শ্যামল মজুমদার ও রিজু দাসকে। তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন সচিব রূপক সাহা, দীপঙ্কর চক্রবর্তী, বিকাশ পাঁজি, মনোজিৎ দাস এবং সাংবাদিক অনিলাভ চট্টোপাধ্যয়।
চলতি বছর বনোয়ারীলাল রায় নামাঙ্কিত ফুটবলার অফ দ্য অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় সিনিয়র পুরুষ দলের ফুটবলার আনোয়ার আলিকে। তাঁর হাতে এই সম্মননা তুলে দেন রাজা গুহ ও অ্যান্তেনিও লোপেজ হাবাস।
এরপর প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামাঙ্কিত অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বিনো জর্জকে। তাঁর হাতে সম্মননা তুলে দেন কোচ হাবাস।
এবার গোপাল বসু নামাঙ্কিত ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ক্লাবের ক্রিকেট দলের অন্যতম সিনিয়র সদস্য ঋতম পোড়েলকে। তাঁকে সম্মানিত করেন ক্লাব সচিব রূপক সাহা।
বনোয়ারীলাল নামাঙ্কিত মহিলা ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার সম্মান পান সাথী দেবনাথ। তাঁকে সম্মাননা জানান দেবব্রত সরকার।
একই মঞ্চ থেকে পঙ্কজ গুপ্ত ও প্রতুল চক্রবর্তী নামাঙ্কিত অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় কলকাতা ময়দানের দুই প্রাক্তন রেফারি ভোলানাথ দত্ত ও পীযুষ রায়কে। তাঁদের হাতে এই সম্মননা তুলে দেন কল্যাণ মজুমদার ও শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। এবার প্রাইড অফ বেঙ্গল অ্যাওয়ার্ড পান সুলঞ্জনা রাউল। তাঁর হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন মন্ত্রী তাপস রায়, শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত, কল্যাণ মজুমদার এবং সচিব রূপক সাহা।
নসা সেন ও বোমকেশ বসু নামাঙ্কিত লাইভ টাইম অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ক্লাবের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক বলাই মুখার্জী ও তরুণ দে- কে। দুই প্রাক্তন অধিনায়ককে ক্লাবের পক্ষ থেকে এই সম্মননা প্রদান করেন, মন্ত্রী তাপস রায়, প্রেসিডেন্ট মুরারী লাল লোহিয়া, কল্যাণ মজুমদার, শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত, রূপক সাহা, সদানন্দ মুখোপাধ্যায়, অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, বিকাশ পাঁজি, ফাল্গুনি দত্ত।
জীবন চক্রবর্তী নামাঙ্কিত সেরা উদীয়মান ফুটবলারের অ্যাওয়ার্ড সম্মানে সম্মানিত করা হয় সিনিয়র ফুটবল দলের আর এক ফুটবলার এডমুন্ড লালরিনডিকাকে। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুরারী লাল লোহিয়া ও দীপঙ্কর চক্রবর্তী।
এই অনুষ্ঠানে লাল-হলুদ সমর্থকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলাররাও। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য।

















